গবাদি পশু পালন ও মোটা তাজাকরন
মোটাজাতকরণের জন্য গরু কিনতে গিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখতে হবে, যেমন:
১) ১ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে গরু কিনতে হবে (১২-১৫ মাস বয়সের গরু মোটাজাতকরনের জন্য ভালো)
২) গায়ের চামড়া ঠিলা-পাতলা, পাঁচরের হাড় চেপ্টা, পায়ের মোট এবং শুধু মাত্র খাবারের অভাবে যে সব গরু শুকিয়ে গেছে এমন গরু কম মূল্যে কিনতে হবে।
৩) মনে রাখতে হবে গর্ভবতী গাভীকে ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়ানো যাবে না। নির্বাচিত গরুকে প্রকল্প মতে প্রক্রিয়াজাত ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়ানোর পূর্বে কিছু চিকিৎসা দিয়ে উপকুক্ত করে নিতে হবে।
ক. গরুর শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সে স্থানে ডেটল বা স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করে নেগোভোন মলম লাগিয়ে প্রয়োজনে ব্যাণ্ডেজ করে রাখতে হবে, যাতে ক্ষত স্থানে মশা-মাছি কিংবা ময়লা জমতে না পারে।
খ. ক্ষত গভীর হলে তা না শুকানো পর্যন্ত আবার পরিস্কার করে মাঝে মধ্যেই মলম ব্যবহার করতে হবে।
গ. ক্ষত সেরে যাওয়ার পর গরুর গায়ের সেসব পরজীবী যেমন-উকুন, আঠালি, সিঁদুর পোকা ইত্যাদি মুক্ত করতে হবে।
নিয়মাবলীঃ
সর্তকতা
১. যে ব্যক্তি ঔষুধ লাগাবেন, তিনি গরুর শরীরের ক্ষতস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকবেন, কারণ এই ঔষুধ বিষ জাতীয়।
২. গরুর শরীরে ক্ষতস্থানকে (যদি ভালোভাবে না শুকিয়ে তাকে) এড়িয়ে ঔষদ প্রয়োগ করতে হবে।
৩. গরুকে ঔষুধ প্রয়োগের পর ভালোভাবে গোসল করিয়ে উক্ত স্থান থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে মুখের বাঁধন খুলতে হবে কারণ গরু স্বভাবত ঔষুধ লাগা ঘাস বা পানি খেয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
অভ্যন্তরীণ পরজীবী মুক্ত করণ
১. গোল কৃমি
২. কলিজা বা পাতা কৃমি।
গোল কৃমি
গোল কৃমি মুক্ত করতে নিচের যে কোন একটি ঔষুধ ব্যবহার করা যায়
মেনাফেঙ্ পাউডার = ১ প্যাকেট ১টি গরুর জন্য
অথবা নেমাফেক্স বড়ি = ৩টি বড়ি একটি পূর্ণ বয়স্ক গরুর জন্য = ২টি বড়ি মাঝারি ও ছোট বাছুরের জন্য
অথবা কোপেন পাউডার = ১টি প্যাকেট একটি গরুর জন্য
অথবা রিনটাল পাউডার = ৭.৫ মি গ্রাম প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য
বিঃদ্রঃ রিনটাল পাউডার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল কারণ এই ঔষুধে ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের কৃমি মারা যায়। গোল কৃমির ঔষুধ খাওয়ানোর পরে সবল গরু ৩ দিন এবং অন্যান্য গরুর ক্ষেত্রে ৭দিন অপেক্ষা করে তবে পাতা কৃমির ঔষুধ প্রয়োগ করতে হবে।
২. কলিজা বা পাতা কৃমি মুক্তকরণের নিয়মাবলী
১. নং মিশ্রণ
ক. তিলের খৈল = ৪ কেজি
খ. চালের কুঁড়া = ৪ কেজি
গ. গমের ভূষি = ৪ কেজি
ঘ. যে কোন ডালের ভূষি = ৪ কেজি
২নং মিশ্রণ
ক. গম ভাঙ্গা =৪কেজি
খ. তিলের খৈল = ৪ কেজি
গ. চালের কুঁড়া = ৪ কেজি
ঘ. ডাল ভাঙ্গা, খেসারি = ৪ কেজি
কৃমি দূর করার পরে গরুকে ইউরিয়া মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে।
গরুকে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে।
১। আঁশ জাতীয় খড় খাদ্যের সাথে মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে
২। দানাদার জাতীয় খাদ্যের সাথে সরাসরিভাবে এবং
৩। ইউরিয়া মোলাসেস বুকের মাধ্যমে
খড়ের সাথে মিশিয়ে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম
১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা।
ধানের খড় = ২ কেজি
সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে
দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি
ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ = ২৫ গ্রাম
দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।
১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা
খড় = ৩ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম
১৫০–২০০ কেজি ওজনের পশুর খাদ্য তালিকা
ধানের খড় = ৪ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম
১। এক বছরের নিচে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
২। কখনও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না
৩। গর্ভাবস্থায় ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
৪। অসুস্থ গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না, তবে দূর্বল গরুকে পরিমাণের চেয়ে কম খাওয়ানো যেতে পারে।
৫। ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রাথমিক অবস্থা (৭ দিন পর্যন্ত পশুকে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। প্রকল্প মেয়াদ তিন মাস, শুরু হবে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার প্রদানের দিন থেকে।
উল্লেখিত তিনটি পদ্ধতির মধ্যে খড়ের প্রক্রিয়াজাত করে ইউরিয়া খাওয়ানো সহজ, ব্যয় কম এবং ফল ভালো আসে। এই প্রকল্পগুলো বিভিন্ন বয়সী হতে পারে। যেমন ৩ বা ৪ মাস মেয়াদি। নির্ভর করছে খামারি কেনা গরুটি কি রকম মোটা করে কি দামে বিক্রি করবেন। দাম বেশি চাইলে প্রকল্প মেয়াদ দীর্ঘ হবে এবং কম চাইরে প্রকল্প মেয়াদ স্বল্প হবে। তবে অনেকেই ঈদের বাজারকে চিন্তা করে তার ৪/৫ মাস আগে থেকে প্রকল্প শুরু করেন।
তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত
গরু মোটাতাজাকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য
গরু মোটাতাজাকরণের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের পশু বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাফফর হোসেন জানান-
প্রয়োজনীয় উপাদান, পদ্ধতি ও মোটাতাজাকরণের সঠিক সময় : বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৪-৬ মাসও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।
স্থান নির্বাচন
গরু নির্বাচন
বাসস্থানের গঠন
খাদ্য : খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো-
শুকনা খড় : ২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানিঃচিটাগুড়=২০:১।
কাঁচা ঘাস : প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।
দানাদার খাদ্য : প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো-
গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি।
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস বক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভুসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।
রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : প্র্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে। গোশালা ও পার্শ¦বর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বাজারজাতকরণ : মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভালো মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজার মূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয় মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় গরুর মূল্য অত্যধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময়। স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি।
গ্রোথ হরমোনের ব্যবহার ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ
মোটাতাজাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পদ্ধতি
স্থান নির্বাচন: গরু রাখার স্থান নির্বাচনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে
১. শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে
২. খোলামেলা ও প্রচুর আলো বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে।
৩.খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে
৪. পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে;
৫. সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে। গরু নির্বাচন: উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অলাভজনক। ২ থেকে ২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভাল। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সাথে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভেজা ভেজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাড়া সোজা হতে হবে। গরুর খাদ্যের ধরণ: খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খাদ্য দ্বারা খরচ কমানো সম্ভব।
এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হল
ক) শুকনো খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনো খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে একরাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি: চিটাগুড় = ২০ : ১।
খ) কাঁচাঘাস: প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্যজাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কালাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।
গ) দানাদার খাদ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হল
১. গম ভাঙা/গমের ভূসি-৪০ কেজি;
২. চালের কুঁড়া-২৩.৫ কেজি;
৩. খেসারি বা যেকোনো ডালের ভূসি-১৫ কেজি:
৪. তিলের খৈল/সরিষার খৈল-২০ কেজি; লবণ-১.৫ কেজি।
তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভূসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।
রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
ক. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে;
খ. গো-শালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে:
গ. নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে;
ঘ. বাসস্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে।
ঙ. স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে।
চ. রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে।
ছ. খাবার পাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
জ. খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
ঝ. পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গরু মোটাতাজাকরণ
গরু মোটাতাজাকরণ
মোটাতাজাকরণের উদ্দেশ্যে গরু নির্বাচন বা ক্রয়ের আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে :
-সঙ্কর জাতের গরু নির্বাচন বা ক্রয় করা উচিত, এটা তাড়াতাড়ি মোটাতাজা হয়।
-তুলনামূলকভাবে কম দামে ক্ষীণ স্বাস্খ্যের গরু নির্বাচন করতে হবে।
-গরুর চামড়া ঢিলেঢালা হতে হবে।
-গরুর বয়স সাধারণত ১ থেকে ২ বছর বয়সের হওয়া উচিত।
-গরুর পা ও গলা লম্বা, কপাল প্রশস্ত হবে।
-নিখুঁত গরু কিনতে হবে।
-নিরোগ ও সুস্খ গরু ক্রয় বা নির্বাচন করতে হবে।
গরু ক্রয় বা নির্বাচনের পর করণীয়:
-গরু ক্রয় বা নির্বাচনের পর সর্বপ্রথমে ডি-ওয়ার্মিং বা কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।
-অন্যান্য বহি:পরজীবী যেমনন্ধ উকুন, আঠালি মুক্ত করতে হবে।
-সুষম খাদ্য ও পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে।
গরুর খাদ্য নিরূপণ:
গরু মোটাতাজাকরণের উদ্দেশ্যই হচ্ছে গরুকে দ্রুত মোটাতাজা করা, তাই গরুকে অবারিত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করা যায়। তবে গরুর ওজন নির্ণয় করেও খাদ্য সরবরাহ করা যেতে পারে। নিুের সূত্রের আলোকে মোটামুটিভাবে ওজন নির্ণয় করা যায়।
গরুর ওজন = =পাউন্ড
পাউন্ডকে কেজিতে রূপান্তরিত করতে হবে।
বুকের পরিধি = সামনের পায়ের পেছনের দিক ঘেঁষে পরিধি পরিমাপ করতে হবে।
দেহের দৈর্ঘ্য = কুঁজ/চুটের মাথা থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত দৈর্ঘ্য।
গরু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য প্রতিদিন দুই কেজি শুষ্ক আঁশজাতীয় খাদ্য, এক কেজি দানাদার খাদ্য, তবে প্রতি কেজি শুষ্ক আঁশজাতীয় খাদ্য সমান ছয় কেজি কাঁচা ঘাসজাতীয় খাদ্য।
ইউরিয়া ও চিটাগুড় দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খড় খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।
খাদ্য পরিবেশন:
-প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
-খাদ্য সরবরাহের আগে পাত্র পরিষ্কার করতে হবে।
-দানাদার খাদ্য সকাল-বিকাল দু’বার সরবরাহ করতে হবে।
-শুকনো অবস্খায় দানাদার খাদ্য দিলে খাদ্য গ্রহণের পরপরই পরিষ্কার পানি সরবরাহ করা উচিত।
-খাদ্য উন্নত ও গুণগত মানের, পরিচ্ছন্ন, ধুলাবালিমুক্ত, টাটকা ও সুস্বাদু হবে।
-খড় বা ঘাস আস্ত না দিয়ে ছোট ছোট করে টুকরো করে দিতে হবে।
খাদ্য:
-ইউরিয়া মোলাসেস দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খড়
-সবুজ ঘাস
-গমের ভুসি
-চালের কুঁড়া
-চিটাগুড়
-লবণ
-নিপিয়ার, প্যারা, জার্মান প্রভৃতি উন্নত পুষ্টিমানের ঘাস
-পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন
-মিনারেল (ডিসিপি ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট)
গরুর যত্ন ও পরিচর্যা:
-প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন, সম্ভব হলে প্রতিদিন (বর্ষাকালে) গরুকে গোসল করাতে হবে।
-সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাদ্য দিতে হবে।
-গরুর ঘর প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।
-খাদ্য রাখা এবং তৈরির জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো হতে হবে।
-গরুর গোবর ও মূত্র একটু দূরে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।
-কোনোরকম অসঙ্গতি দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
-গরুর ঘরের মেঝে অমসৃণ ও ইট বিছানো হলে ভালো হয়।
-পর্যাপ্ত আলো-বাতাস যাতে ঘরে প্রবেশ করতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
-বাসস্খানের আশপাশের পরিবেশ নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে হলে মশা-মাছির উপদ্রব হবে, এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।
গরুর রোগ, কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
গরুর মড়ক:
তড়কা রোগ (উবামড়কি/গলি/ধড়কা/ তীরাজ্বর):
কারণ
লক্ষণ
-দেহের লোম খাড়া হয়।
-দেহের তাপমাত্রা ১০৬-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়।
-দেহে কাঁপুনি ওঠে, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত ও গভীর হয়।
-নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
-পাতলা ও কালো পায়খানা হয়।
-ঘাড়ের পিছনে চামড়ার নিচে তরল পদার্থ জমে ফুলে ওঠে
-ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা ও পেটের ব্যথা হয়।
-লক্ষণ প্রকাশের ১-৩ দিনের মধ্যে পশু ঢলে পড়ে এবং মারা যায়।
-মৃত্যুর সাথে সাথে পেটফুলে এবং রক্ত জমাট বাঁধে না।
প্রতিরোধ
-প্রথম ৬ মাস বয়সে পশুকে টিকা দিতে হবে। পরে প্রতি বছর বয়সে একবার করে টিকা দিতে হবে
-সুস্খ পশুকে পৃথক রাখতে হবে।
-পশুর মল, রক্ত ও মৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে
-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবাণুমুক্ত শুকনা স্খানে লালন-পালন করতে হবে।
চিকিৎসা
-পেনিসিলিন/বাইপেন ভেট/জেনাসিন ভেট/এম্পিসিন ভেট ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও স্ট্রেপটোমাইসিন/এন্টিহিস্টাভেট ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে।
খুরারোগ (বাতা, জ্বারা, তাপা, এসো, খুরাপাকা):
কারণ
লক্ষণ
-মুখে, জিহ্বায় ও খুরে ফোস্কা পড়ে
-ফোস্কা ফেটে ঘা হয়।
-নাক ও মুখ দিয়ে লালা ঝরে।
-পশু খুঁড়িয়ে হাঁটে
-পশু শক্ত কিছু খেতে পারে না।
-ওলানের বাঁটে ক্ষত ও দুর্গìধ হয় এবং কষ ঝরে
-ক্রমে পায়ের খুর খসে পড়ে।
-পশু দুর্বল হয়ে পড়ে।
-দেহের তাপমাত্রা বাড়ে
-গাভীর দুধ কমে যায়।
প্রতিরোধ
চিকিৎসা
-হালকা গরম পানির সাথে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ক্ষতস্খানে দৈনিক ২-৩ বার ধুয়ে দিতে হবে।
-সোহাগা (বোরাক্স) বা বরিক পাউডার মধু বা গ্লিসারিনের সাথে মিশিয়ে ক্ষতস্খানে লাগাতে হবে।
-পশুকে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন (প্রোনেপেন/এসপিভেট/ ডায়াডেট/ সুমিডভেট/জেনসিনভেট) দিতে হবে।
-জ্বর কমানোর জন্য ডিক্লোডেট খাওয়াতে হবে।
-নারকেল তেল ও তারপিন তেল ৪:১ অনুপাতে মিশিয়ে ক্ষতে লাগাতে হবে।
-পশুকে নরম খাদ্য খাওয়াতে হবে।
সাবধানতান্ধ :
-কাদামাটি বা পানিতে পশুকে রাখা যাবে না।
-খোসকা পাতা দিয়ে ক্ষতস্খান ঘষা যাবে না।
বাদলা রোগ (কালো, জহরত, সুজওরা, কৃষজঙ্গ রোগ):
কারণ :
গ্রাম পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার ৬ মাস থেকে দু’বছর বয়সে এ রোগ বেশি হয়। দেহের ক্ষত ও মলের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।
লক্ষণ :
-পশুর দেহের মাংসপেশি ফুলে যায় এবং গায়ের চামড়া খসখসে হয়।
-ফোলা স্খানে গরম অনুভূত হয় এবং হাত দিলে চটচট শব্দ হয়।
-ফোলা স্খানে পচন ধরে এবং পশু মারাও যেতে পারে
-দেহের তাপমাত্রা ১০৫-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়ে।
-কখনো পশুর পেট ফাঁপে এবং পশু খোঁড়াতে থাকে।
-খাওয়া ও জাবর কাটা বìধ হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।
-দেহের পশম খাড়া হয়। পশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
-আক্রান্ত স্খানে কাটলে গাঢ় লাল দুর্গìধযুক্ত ফেনা বের হয়।
প্রতিরোধ :
তড়কা রোগের পদ্ধতিতে রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
চিকিৎসা :
-পশুর শিরা বা ত্বকের নিচে প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ হাজার ইউনিট পেনিসিলিন ইনজেকশন দিতে হবে।
অথবা ৩-৫ মিলিগ্রাম টেট্রাসাইক্লিন ইনজেকশন দিতে হবে। অথবা বাইপেনভেট/এমপিসিনভেট/ এন্টিহিস্টাভেট ইনজেকশন
দেয়া যেতেপারে।
ওলান ফোলা/প্রদাহ রোগ (ওলান পাকা, ঠুনকো ইত্যাদি):
কারণ :
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়ে এ রোগ হয়। অস্বাস্খ্যকর স্যাঁতসেঁতে বাসস্খান এবং ময়লা হাতে দুধ দোহানো, ওলানে আঘাত প্রভৃতি কারণে রোগজীবাণু সংক্রমিত হয়।
লক্ষণ :
-ওলান লাল হয়ে ফুলে যায়।
-ওলান শক্ত ও গরম হয় এবং ওলানে ব্যথা হয়।
-দুধ ছানার মতো ছাকা ছাকা হয়।
-দুধের সাথে রক্ত বের হতে পারে।
-ওলান ও বাঁট নষ্ট হয়ে গাভীর দুধ বìধ হয়ে যায়।
-দুধ উৎপাদন বìধ হয়।
প্রতিরোধ :
-পশু শুকনো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্খানে লালন-পালন করতে হবে।
-ওলান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে।
-হাত জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে দুধ দোহন করতে হবে।
-ওলান গরম হলে ঠাণ্ডা বা ঠাণ্ডা হলে গরম সেক দিতে হবে।
চিকিৎসা :
-আক্রান্ত পশুকে জেনাসিনভেট/ এমপিসিন ভেট/ ক্লোফেনাক ভেট/ এন্টিহিস্টাভেট ইনজেকশন দিতে হবে।
-সরিষার তেল ও কর্পূর তেল মিশিয়ে ওলানে মালিশ করা যেতে পারে।
ডায়রিয়া/পাতলা পায়খানা/উদরাময় রোগ:
কারণ :
ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া জাতীয় জীবাণু দ্বারা হয়। বর্ষার সময় দূষিত খড়, পচা লতাপাতা, পচা পানি, পচা খাদ্য খেয়ে এ রোগ হয়।
লক্ষণ :
-ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হয়।
-মুখ দিয়ে লালা ঝরে।
-মলের সাথে রক্ত বের হয়।
-পেটের ডান দিকে চাপ দিলে পশু ব্যথা পায়।
প্রতিরোধ :
-পরিষ্কার টাটকা খাদ্য খাওয়াতে হবে।
-বাচ্চা জন্মের পরই ২% আয়োডিন দিয়ে নাভি মুছে দিতে হবে।
-জন্মের পর ২ ঘন্টার মধ্যে কলস্ট্রাম সিরাপ খাওয়াতে হবে।
-জীবাণুমুক্ত বিশুদ্ধ পানি খাওয়াতে হবে।
চিকিৎসা :
-স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
-সালফা প্লাস ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।
-কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।
নিউমোনিয়া:
কারণ :
বিভিন্ন জীবাণুর (ব্যাকটেরিয়া, রিকেটশিয়া, ভাইরাস) সাথে এলার্জেন, আঘাত, ক্লান্তি, ঠাণ্ডা লাগা, বৃষ্টিতে ভেজা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, আর্দ্র আবহাওয়া ইত্যাদি কারণে এ রোগ হয়।
লক্ষণ :
-আক্রান্ত পশুতে প্রথমে অল্প জ্বর ও কাশি এবং পরে ঘনঘন কাশি দেয়।
-নাক ও মুখ দিয়ে সাদা সর্দি বের হয়।
-দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
-শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় শব্দ হয়।
প্রতিরোধ :
-বৃষ্টি, ঠাণ্ডা, আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে পশু রাখা যাবে না। শুকনো ও গরম স্খানে রাখতে হবে।
চিকিৎসা :
পশুকে জেনাসিনভেট/ ওটেট্রাভেট/ কোট্রিমভেট ইনজেকশন দিতে হবে। যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ পশুর মধ্যে দেখলে উপজেলা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
উন্নত জাতের গাভী পালন
গাভীর থাকার ঘর
-ঘরটি মোটামুটি খোলামেলা জায়গায় হতে হবে।
-বাঁশ, ছন, ঘড়, পাটঘড়ি ইত্যাদি দিয়ে ঘর নির্মাণ করা যাবে।
-ঘরের মেঝে ঢালু ও ড্রেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে চোন ও পানি গড়িয়ে বেরিয়ে যেতে পারে।
-খাদ্য ও পানির পাত্র গুলো প্রতিদিন নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে।
-খাওয়া শেষ হলে পাত্রগুলো ঢেকে রাখাই ভাল।
স্বাস্থ্য পরিচর্যা
-গরুকে নিয়োমিত গোসল করাতে হবে।
-প্রতিদিন নিয়মিত গোয়াল ঘরের গোবর- চোনা পরিস্কার করে নিদ্রিষ্ঠ স্থানে বা গর্তে জমা করততে হবে। যা পরবর্তীতে মূল্যবান সারে পরিনত হয়।
-গরুর গায়ের আঠালি , ডাসা(মাছি), জোঁক ইত্যাদি অবাঞ্চিত পোকা-মাকড় বেছে ফেলতে হবে।
-গরুর স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
-উপজেলা পশুসম্পদ কার্যালয় হতে গবাদি পশুকে গো-বসন্ত, তরকা, বাদলা, গলাফুলা, ক্ষুরা রোগের প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।
-গবাদি পশুর রোগ দেখা দিলে পশু চিৎিসক বা নিকটস্থ উপজেলা পশুসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
উন্নত জাতের গাভী প্রাপ্তি স্থান
পালনের জন্য
দৈনিক সুষম খাদ্য–তালিকা (গ্রাম হিসেবে):
গাভীর দুধ দেয়া অবস্থায় (১২৫দিন) তারপর পরিবর্তন করতে হবে।
-চালের গুড়া ২৫০
-গমের ভুষি ২৫০
-খৈল ২৫০
-ডালের ভষি ২৫০
-চিটাগুড় ২০০
-লবন/খনিজ
-মশ্রণ ভিটামিনসহ ৫০
এছাড়াও দৈনিক অন্তত
রোগ প্রতি রোধ
রোগের নাম প্রয়োগের স্থান বয়স পুর্ণ প্রয়োগের সময়
তড়কা চামড়ার নীচে ১ বৎসর ১বৎসর পর পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।
গলাফুলা চামড়ার নীচে ৬ মাস ৬ মাস পর পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।
বাদলা চামড়ার নীচে ৬ মাস ৬ মাস পর পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।
ক্ষুরারোগ গলার দুপাশে ৪-৬ মাস ১বৎসর পর পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।
গো-বসন্ত চামড়ার নীচে ১ বৎসর ১বৎসর পর পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।
জলাতংক টিকা মাংস পেশী ১ বৎসর ১বৎসর পর পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।
বাছুর এর পরিচর্যা
-চালের গুড়া ৩০০ গ্রাম
-গমের ভষি ৩০০ গ্রাম
-খৈল ২৫০ গ্রাম
-চিটাগুড় ১৫০ গ্রাম
-লবন ও ভিটামিন ৫০ গ্রাম
এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমানে খড়, কাঁচাঘাস ও বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি খাওয়াতে হবে।
ছয় মাস বয়সে বাছুরকে সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।
বাছুরকে কৃমির ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ মতে দিতে হবে।
স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে সুষম খাদ্য দিতে হবে।
গড়ে তুলুন ডেইরি ফার্ম
প্রাথমিক প্রয়োজন
বাছাই প্রক্রিয়া
স্থান নির্বাচন
খাবার সরবরাহ
আয়–ব্যয়
পরিচর্যা
পশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা
তাই নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট হই এবং এরকম ডেইরি ফার্ম করে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হই।
এগ্রোবাংলা ডটকম
গাভীর দুধের উত্পাদন যেভাবে বাড়াবেন
১. মাত্রাতিরিক্ত দানাদার খাদ্য খাওয়ালে।
২. পিলেট জাতীয় খাদ্য খাওয়ালে।
৩. অতিরিক্ত রসালো খাদ্য খাওয়ালে এবং
৪. মিহিভাবে গুঁড়ো করা খড় খাওয়ালে।
দীর্ঘ বিরতিতে বাচ্চা প্রসব করলে গাভীর দুধ উত্পাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। স্বল্প বিরতিতে বাচ্চা প্রসবের কারণে দুধ উত্পাদন কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই গাভীকে বাচ্চা প্রসবের ৬০-৯০ দিনের মধ্যে পাল দিতে হবে। কোনোক্রমেই ৬০ দিনের আগে প্রজনন করানো উচিত নয়। গাভীর শরীরে ৫০% এবং দুধে প্রায় ৮৭% পানি থাকে। তাই গাভীকে ইচ্ছামত পানি পান করার ব্যবস্থা করলে দুধ উত্পাদন বেশি হয় এবং দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি থাকে।
এগ্রোবাংলা ডটকম
গাভীর বড় ওলানের পরিচর্যা
অধিক দুধ উত্পাদনকারী গাভীর দৈহিক আকার যেমন বড় হয় তেমনি বড় হয় তার ওলানও। এসব গাভী যত্নসহকারে পরিচর্যা করতে হয়। বড় ওলান নিয়ে গাভীর চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ওলানে আঘাত লেগে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। এতে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বাসা বেধে ম্যাসটাইটিস হতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে এসব গাভী অন্যান্য গরু থেকে আলাদা করে পালন করা হয়। এত সতর্কতার পরও উঠা-বসার সময় শেডের কনক্রিটের মেঝেতে ঘষা লেগে ওলানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। আর তাতে গোবর বা চোনা লেগে রোগ-জীবাণুর আক্রমণে গাভী অসুস্থ্র হয়। ওলানে সমস্যা দেখা দিলে দুধ উত্পাদন হ্রাস পায়। ম্যাসটাইটিস মারাত্মক আকার ধারণ করলে কখনো কখনো ওলানের এক বা একাধিক বাঁট কেটে ফেলতে হয়। তখন দুধ উত্পাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসে।